চন্দ্রাবতীর জীবনীঃঃ “ধারাস্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহি যায়/ বসতি যাদবানন্দ করেন তথায়।। ভট্টাচার্য্য বংশে জন্ম অঞ্জনা ঘরণী/ বাঁশের পাল্লায় তাল-পাতার ছাউনী।। বাড়াতে দারিদ্র-জ্বালা কষ্টের কাহিনী/ তার ঘরে জন্ম নিলা চন্দ্রা অভাগিনী।। সদাই মনসা-পদ পূজি ভক্তিভরে/ চাল-কড়ি কিছু পাই মনসার বরে।। শিব-শিবা বন্দি গাই ফুলেশ্বরী নদী/ যার জলে তৃষ্ণা দূর করি নিরবধি।। বিধিমতে প্রণাম করি সকলের পায়/ পিতার আদেশে চন্দ্রা রামায়ণ গায়।।” স্বরচিত রামায়ণের ভূমিকায় চন্দ্রাবতী নিজের আত্মপরিচয় দিয়েছেন এভাবেই। কাব্যের কথা নয়। চন্দ্রাবতী আসলেই অভাগিনী। তার জীবনে যে বেদনাবিধুরতা এসেছে, যে সকরুণতা এসেছে, তা খুব কম মানুষের জীবনেই এসে থাকে। অত্যন্ত করুণভাবে তরুণ বয়সেই সমাপ্তি ঘটেছে এই কবির জীবনের। নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ করুণ জীবনের কারণে পালা রচয়িতা থেকে নিজেই হয়ে উঠেছেন পালাগানের করুণরসে সিক্ত শোকাচ্ছাদিত নায়িকা। চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে অন্যতম এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম বাঙালি নারী কবি৷ এই বিদূষী নারী অন্যান্য কাব্য ছাড়াও পিতার আদেশে বাংলা ভাষায় রামায়ণ রচন...
🏮#রাতের_লন্ঠন [জাপানের বিখ্যাত লোককথা 'বোতান দোরো' (Botan Dōrō এর কাহিনী অবলম্বনে] একদা জাপানের এক শহরে ওগিয়ারা শিনোজো নামে এক সামুরাই যোদ্ধা ছিল। তার বীরত্বের খ্যাতি জাপানে ছড়িয়ে পড়েছিল। এত বিখ্যাত, নাম, প্রতিপত্তি থাকা সত্ত্বেও তার মনে সুখ ছিল না। বিবাহের কয়েক বছরের মধ্যেই এক কঠিন রোগে তার প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেই শোকযন্ত্রনা সর্বদা বহন করে বেড়াতো সে। এই ভাবে দিন কাটছিল তার। একবার অবন মাসে সেই সামুরাই তার গ্রামের দেশে এল। সেই গ্রামেই ছিল তার মা-বাবা এবং পূর্বপুরুষের সমাধি। অবন মাসে নাকি স্বর্গ থেকে মৃত পূর্বপুরুষের আত্মা পৃথিবীতে নেমে আসে। তাদের আত্মার শান্তি কামনায় সেই সামুরাই গ্রামে নানা পূজা আয়োজন করল যাতে পূর্বপুরুষের আত্মা আবার স্বর্গে ফিরে যেতে পারে৷ সারা দিন নানা প্রার্থনা-রীতি রেওয়াজ সেরে সন্ধ্যা বেলায় ওগিয়ারা ঘরে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিল। বাইরে তখন অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। ঠিক এমন সময় দরজায় ঠকঠক শব্দ হল। "এই অসময়ে কে এল?" ভাবতে ভাবতে দরজা খুলল সেই সামুরাই। দেখল, এক যুবতী নারী দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে। পরণে বেশ দামী পোশাক। পাশে লন্ঠন হাতে দাঁড়িয়ে তার চাকরান...
Comments
Post a Comment