ভারতের পুরাণকাহিনির মতই গ্রীস দেশের মাইথোলজিতে রয়েছেন অনেক বীর দেবতা এবং দেবী। গ্রীক মিথলজির দেবদেবীদের কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। আজ আপনাদের বলব গ্রীক দেবতাদের আদিমতম (primordial) অর্থাৎ প্রথম প্রজন্মের কথা। প্রথম প্রজন্মের দেবতা এবং আমাদের প্রাচীন বৈদিক দেবতাদের মধ্যে একটা বিশেষ মিল রয়েছে। আমাদের প্রাচীন যুগ অর্থাৎ বৈদিক সময়ে যেমন প্রকৃতি বিষয়ক দেবতা ছিলেন [যেমন ইন্দ্র (বজ্র/আকাশ), বায়ু, অগ্নি, বরুণ (জল)], তেমনি গ্রীক পুরাণের আদিম দেবতারাও ছিলেন প্রকৃতি সম্বন্ধীয়। সকল গ্রীক দেবদেবীর মধ্যে প্রথম সৃষ্টি হয়েছিলেন 'ক্যাওস' (Khaos/chaos)। ইনি ছিলেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের শূন্যতা বা বায়ুমন্ডল। এর পর সৃষ্টি হলেন দেবমাতা গাইয়া (Gaia) বা পৃথিবী। কেউ বলেন ইনি ক্যাওস থেকে জন্মেছিলেন। আবার কেউ বলেন ইনি স্বয়ম্ভূ অর্থাৎ নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছেন ঠিক যেমন আমাদের ব্রহ্মা। এই দেবী ছিলেন গ্রীক মিথলজির বিখ্যাত দেবতাদের জননী। ধরিত্রী মায়ের সন্তানদের নিয়ে পরে বলছি। এর পর জন্ম নিলেন টারটারাস Tartarus। টারটারাস হলেন পৃথিবীর গহ্বরে জ্বলতে থাকা নরক। এখানেই অপরাধীদের বন্দী রেখে নরকযন্ত্রণা ভোগ ক...
চন্দ্রাবতীর জীবনীঃঃ “ধারাস্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহি যায়/ বসতি যাদবানন্দ করেন তথায়।। ভট্টাচার্য্য বংশে জন্ম অঞ্জনা ঘরণী/ বাঁশের পাল্লায় তাল-পাতার ছাউনী।। বাড়াতে দারিদ্র-জ্বালা কষ্টের কাহিনী/ তার ঘরে জন্ম নিলা চন্দ্রা অভাগিনী।। সদাই মনসা-পদ পূজি ভক্তিভরে/ চাল-কড়ি কিছু পাই মনসার বরে।। শিব-শিবা বন্দি গাই ফুলেশ্বরী নদী/ যার জলে তৃষ্ণা দূর করি নিরবধি।। বিধিমতে প্রণাম করি সকলের পায়/ পিতার আদেশে চন্দ্রা রামায়ণ গায়।।” স্বরচিত রামায়ণের ভূমিকায় চন্দ্রাবতী নিজের আত্মপরিচয় দিয়েছেন এভাবেই। কাব্যের কথা নয়। চন্দ্রাবতী আসলেই অভাগিনী। তার জীবনে যে বেদনাবিধুরতা এসেছে, যে সকরুণতা এসেছে, তা খুব কম মানুষের জীবনেই এসে থাকে। অত্যন্ত করুণভাবে তরুণ বয়সেই সমাপ্তি ঘটেছে এই কবির জীবনের। নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ করুণ জীবনের কারণে পালা রচয়িতা থেকে নিজেই হয়ে উঠেছেন পালাগানের করুণরসে সিক্ত শোকাচ্ছাদিত নায়িকা। চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে অন্যতম এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম বাঙালি নারী কবি৷ এই বিদূষী নারী অন্যান্য কাব্য ছাড়াও পিতার আদেশে বাংলা ভাষায় রামায়ণ রচন...
বাংলা ভাষার তথা সমগ্র বাংলার আদি নারী কবি বলতে খনা, রামী, মাধবী এবং চতুর্থজন হলেন চন্দ্রাবতী। পদ্মপুরাণ, মনসামঙ্গল রচয়িতা বিখ্যাত কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতী (১৫৫০-১৬০০)। বাল্যসখা জয়ানন্দের সাথে বিবাহের দিন জয়ানন্দ আসমানী নামে অপর এক মহিলাকে বিবাহ করেন। অপমানে-দুঃখে সারা জীবন অবিবাহিত থেকে গেলেন চন্দ্রাবতী। তার সেই দুঃখের কাহিনী যেন তুলে ধরলেন তার লেখা রামায়ণে, যা "চন্দ্রাবতী রামায়ণ" নামে খ্যাত। চন্দ্রাবতী রামায়ণের কাহিনীটি অসমাপ্ত। যেটুকু কাহিনী তিনি লিখে গিয়েছেন তাতে মূলত তিনটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। ১. সীতার জন্মঃ সীতা রাবণ ও মন্দোদরীর কন্যা। মালয়, কাশ্মীরে প্রচলিত রামায়ণে রাবণকে সীতার পিতা দেখানো হয়েছে। এই কন্যা ভবিষ্যতে হানিকর হবে এই ভবিষ্যতবাণী পেয়ে রাবণ তাকে জলে ভাসিয়ে দেয়৷ মাধব ও সতা নামে এক জেলে দম্পতি তাকে পান এবং জনক রাজরাণীর কাছে রেখে আসেন। সতার নাম থেকেই তার নাম হয় সীতা। ২. সীতার বারমাসীঃ কৈকেয়ীর কারণে রাম বনবাসে যান, সীতা, লক্ষ্মণ তার সাথে বনে যান। চন্দ্রাবতী রামায়ণে ১৪ বছর নয়, ১২ মাস তাদের বনবাসে কাটাতে হয়েছিল। সীতা সেই ১২ মাসের কাহিনী শো...
Comments
Post a Comment