চন্দ্রাবতীর জীবনীঃঃ “ধারাস্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহি যায়/ বসতি যাদবানন্দ করেন তথায়।। ভট্টাচার্য্য বংশে জন্ম অঞ্জনা ঘরণী/ বাঁশের পাল্লায় তাল-পাতার ছাউনী।। বাড়াতে দারিদ্র-জ্বালা কষ্টের কাহিনী/ তার ঘরে জন্ম নিলা চন্দ্রা অভাগিনী।। সদাই মনসা-পদ পূজি ভক্তিভরে/ চাল-কড়ি কিছু পাই মনসার বরে।। শিব-শিবা বন্দি গাই ফুলেশ্বরী নদী/ যার জলে তৃষ্ণা দূর করি নিরবধি।। বিধিমতে প্রণাম করি সকলের পায়/ পিতার আদেশে চন্দ্রা রামায়ণ গায়।।” স্বরচিত রামায়ণের ভূমিকায় চন্দ্রাবতী নিজের আত্মপরিচয় দিয়েছেন এভাবেই। কাব্যের কথা নয়। চন্দ্রাবতী আসলেই অভাগিনী। তার জীবনে যে বেদনাবিধুরতা এসেছে, যে সকরুণতা এসেছে, তা খুব কম মানুষের জীবনেই এসে থাকে। অত্যন্ত করুণভাবে তরুণ বয়সেই সমাপ্তি ঘটেছে এই কবির জীবনের। নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ করুণ জীবনের কারণে পালা রচয়িতা থেকে নিজেই হয়ে উঠেছেন পালাগানের করুণরসে সিক্ত শোকাচ্ছাদিত নায়িকা। চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে অন্যতম এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম বাঙালি নারী কবি৷ এই বিদূষী নারী অন্যান্য কাব্য ছাড়াও পিতার আদেশে বাংলা ভাষায় রামায়ণ রচন...
ভারতীয় পুরাণগুলির মধ্যে পৌরানিক কাহিনীর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কত অজানা রহস্য, কত না-জানা কথা, কত গোপন তথ্য। আজ এমনি বিষয় আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চলেছি। এই পৃথিবীতে রয়েছে অজস্র জীব। হাজার হাজার প্রজাতির প্রাণী এবং উদ্ভিদ। এদের মধ্যে কিছু জীব আকারে অনেক বড়। আবার কিছু জীব অতি ক্ষুদ্র। আবার এমন অজস্র জীব আমাদের আশে পাশে ছড়িয়ে রয়েছে যাদের আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা। যেমন, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদি। মানব বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে ব্যাকটেরিয়ার প্রথম সন্ধান মেলে ১৭শতকে। ভাইরাস আবিস্কার হয় ১৯ শতকের শেষের দিকে। জানলে অবাক হবেন, আজ থেকে প্রায় ২৫০০ বছর আগে লেখা বিষ্ণুপুরাণে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস জাতীয় জীবের উল্লেখ মেলে। বিষ্ণুপুরাণের সপ্তম অধ্যায় অর্থাৎ "যমগীতা" নামক অধ্যায়টির সূচনায় দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ শ্লোকে লেখা আছেঃ saptadvIpAni pAtAlavIthyashcha sumahAmune | saptalokA ye.antarasthA brahmANDasyasya sarvataH || 2 || sthUlaiH sUkShmaistathA sthUlasUkShmaiH sUkShmasthUlaistathA | sthUlAsthUlataraishchaitatsarvaM prANibhirAvRRitam || 3 || a~NgulasyAShTabhAgo.api na so.a...
"সদা সত্য কথা বলিবে" বিদ্যাসাগরমশাইয়ের বর্ণপরিচয়ে লেখা এই বাক্য কেউ মেনে চলুক বা না চলুক, শৈশবে পড়েনি এমন লোক কম! সত্য কথা বলার উপদেশ প্রাচীন কাল থেকেই বলা হয়ে আসছে। হাজার বছর আগে সত্যের জয়গাথা লেখা হয়েছে মুন্ডক উপনিষদে: "সত্যমেব জয়তে"। সত্যের পথ অবলম্বনকে প্রকৃত ধর্ম বা কর্তব্য বলা হয়েছে বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থে। প্রাচীনযুগের মুণি-ঋষি থেকে শুরু করে বর্তমান কালের পন্ডিতরাও এই একই উপদেশ দিয়েছেন। তবে ব্যতিক্রমও আছে। পারদ তরল হলেও ধাতু এটা যেমন ব্যতিক্রম, তেমনি মিথ্যা বললেও তা ধর্মপালন এই ব্যতিক্রমী উপদেশ রয়েছে মহাভারতে। তবে, সেটা অবশ্যই সব ক্ষেত্রে নয়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে। মহাভারতে দুই জায়গায় এমন পাঁচটি বিশেষ অবস্থার কথা বলা আছে, যেসব ক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় নিলে সেটা শাস্ত্রসম্মত হয়, তাতে কোনো পাপ হয় না। মহাভারতের আদিপর্বে রয়েছে যযাতি, দেবযানীর কাহিনী। চন্দ্রবংশীয় রাজা যযাতির সাথে বিবাহ হয় শুক্রাচার্যের কন্যা দেবযানী। দেবযানীর দাসী শর্মিষ্ঠা। দেবযানীর বিবাহের পর শর্মিষ্ঠা যযাতিকে স্বামী রূপে পেতে চাইলেন, যযাতি হোক তার সন্তানের পিতা। কিন্তু তিনি যখন যযাতিকে সন্...
Comments
Post a Comment