কুশধ্বজ নামে এক রাজার কন্যা ছিলেন বেদবতী। বেদবতী রাবণ দ্বারা অপমানিত হয়ে নিজের আত্মত্যাগ করেন এবং মৃত্যুর আগে রাবণকে অভিশাপ দিয়ে যান, পরজন্মে বেদবতীই রাবণের বিনাশের কারণ হবেন। পরজন্মে বেদবতী সীতা রূপে জন্ম নেন। কুশধ্বজের ভাই ধর্মধ্বজের কন্যা ছিলেন তুলসী। তুলসী ছিলেন অসুররাজ শঙ্খচূড়ের স্ত্রী। শঙ্খচূড় পূর্বজন্মে শ্রীকৃষ্ণ সখা সুদামা ছিলেন। রাধার অভিশাপে তিনি অসুররূপে জন্মলাভ করেছেন। শঙ্খচূড় মহাদেবের তপস্যা করে এক কবজ লাভ করেছিলেন, যা তার দেহে যতক্ষন থাকবে, ততক্ষণ শঙ্খচূড় দেবতাগণের দ্বারা অজেয় থাকবেন। এছাড়া শঙ্খচূড়ের স্ত্রী তুলসী যতক্ষণ পবিত্রতা বজায় রাখবেন, তার স্বামী ততক্ষন সমস্ত বিপদমুক্ত থাকবেন। অজেয় শঙ্খচূড় দ্বারা বিতাড়িত হয়ে দেবতাগণ মহাদেব ও বিষ্ণুর সাহায্য প্রার্থনা করলেন। বিষ্ণু-প্রদত্ত শূল দ্বারা শিব শঙ্খচূড়ের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। সেই সময় বিষ্ণু শঙ্খচূড়ের রূপ ধারণ করে তুলসীর কাছে গেলেন এবং তার পবিত্রতা নষ্ট হয়। এরপর ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশ নিয়ে শঙ্খচূড়ের সন্মুখে উপস্থিত হলেন বিষ্ণু। তার কাছে ভিক্ষাস্বরূপ সেই কবজ চাইলেন। ব্রাহ্মণের কথামত শঙ্খচূড় সেই কবজ ব্রাহ্মণকে দান করলেন। এ...
ব্রহ্মা-সরস্বতীঃ কেন পিতা কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন? দেবী সরস্বতীকে সৃষ্টি করেছিলেন ব্রহ্মা। আবার এমন কথিত আছে যে, পিতা ব্রহ্মা তার সেই কন্যা সরস্বতীকেই বিবাহ করেছিলেন। সমাজের চোখে নিষিদ্ধ এই সম্পর্ক নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। জেনে নেওয়া যাক কাহিনীটি। কাহিনীটি এইরূপঃ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড রচনা করেছেন ব্রহ্মা। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে আরো সুন্দর, আরো সুশৃঙ্খল বানিয়ে তুলতে জ্ঞানও দরকার। এমনকি, স্বয়ং ব্রহ্মারও সেই জ্ঞান খুবই প্রয়োজন যাতে ব্রহ্মাণ্ড আরো সুন্দর হয়। সেই প্রয়োজনের তাগিদে তিনি সরস্বতীর সৃষ্টি করলেন। সরস্বতীকে সৃষ্টি করার পর ব্রহ্মা তার প্রতি এতোটাই আকৃষ্ট হয়ে পরেন যে তিনি তাকে বিবাহ করতে চাইলেন। কিন্তু দেবী সরস্বতী একথা জেনে চতুর্দিকে পালিয়ে বেড়াতে লাগলেন, তিনি কিছুতেই ব্রহ্মার সামনে আসতে চাইছেন না। কিন্তু তার রূপে বিভোর ব্রহ্মা যেদিকে সরস্বতী যান, সেই দিকেই তাকানোর জন্য চারটি মুখমন্ডলের সৃষ্টি করলেন। ব্রহ্মার দৃষ্টি এড়িয়ে আর তো পালানোর জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে দেবী সরস্বতী উর্দ্ধে গমন করলেন। কিন্তু তখন ব্রহ্মা তার পঞ্চম মুখমন্ডলের জন্ম দেন। ব...
বাংলা ভাষার তথা সমগ্র বাংলার আদি নারী কবি বলতে খনা, রামী, মাধবী এবং চতুর্থজন হলেন চন্দ্রাবতী। পদ্মপুরাণ, মনসামঙ্গল রচয়িতা বিখ্যাত কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতী (১৫৫০-১৬০০)। বাল্যসখা জয়ানন্দের সাথে বিবাহের দিন জয়ানন্দ আসমানী নামে অপর এক মহিলাকে বিবাহ করেন। অপমানে-দুঃখে সারা জীবন অবিবাহিত থেকে গেলেন চন্দ্রাবতী। তার সেই দুঃখের কাহিনী যেন তুলে ধরলেন তার লেখা রামায়ণে, যা "চন্দ্রাবতী রামায়ণ" নামে খ্যাত। চন্দ্রাবতী রামায়ণের কাহিনীটি অসমাপ্ত। যেটুকু কাহিনী তিনি লিখে গিয়েছেন তাতে মূলত তিনটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। ১. সীতার জন্মঃ সীতা রাবণ ও মন্দোদরীর কন্যা। মালয়, কাশ্মীরে প্রচলিত রামায়ণে রাবণকে সীতার পিতা দেখানো হয়েছে। এই কন্যা ভবিষ্যতে হানিকর হবে এই ভবিষ্যতবাণী পেয়ে রাবণ তাকে জলে ভাসিয়ে দেয়৷ মাধব ও সতা নামে এক জেলে দম্পতি তাকে পান এবং জনক রাজরাণীর কাছে রেখে আসেন। সতার নাম থেকেই তার নাম হয় সীতা। ২. সীতার বারমাসীঃ কৈকেয়ীর কারণে রাম বনবাসে যান, সীতা, লক্ষ্মণ তার সাথে বনে যান। চন্দ্রাবতী রামায়ণে ১৪ বছর নয়, ১২ মাস তাদের বনবাসে কাটাতে হয়েছিল। সীতা সেই ১২ মাসের কাহিনী শো...
Comments
Post a Comment